ডিজিটাল পণ্য ও সেবা নকশায় সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেন পলক
‘সাইবার রেজিলেন্স ফর বাংলাদেশ’ স্লোগানে মতো মঙ্গলবার সকালে প্রথমবারের শুরু হলো দিনব্যাপী সাইবার সুরক্ষা সম্মেলন। বাংলাদেশ ব্র্যান্ডফোরামের আয়োজনে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তথ্যপ্রযুক্তি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এসময় তিনি সরকারি বেসরকারি ও ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পণ্য বা সেবা তৈরির ক্ষেত্রে এর নকশায় সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। আর এজেন্য প্রতিবছরই এমন আয়োজন করে তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের এ খাতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বিশ্বের ট্রিলিয়ন ডলারের সাইবার সুরক্ষা খাতে নজর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দেশের সাইবার নিরাপত্তায় বিদেশ থেকে ভাড়া করা প্রযুক্তি বা সহায়তা নিলে হবে না, আমাদের নিজস্ব শক্তি গড়ে তুলতে হবে।কোন দেশ তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন ভাড়া করা সামরিক শক্তি দিয়ে করতে চায় না, তেমনি বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা বা সুরক্ষায় ভাড়া করা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে না। দেশের ব্যাংকিং, টেলিকম এবং পাওয়ার সেক্টরে ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে বিদেশ নির্ভর হওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমরা নিজস্ব সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট এবং প্রযুক্তির নতুন টুল তৈরিতে কাজ করছি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জুনাইদ আহমেদ পলক
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইডিয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক হুসাইন এ সামাদ, টেকনো হ্যাভেন কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সিইও হাবিবুল্লাহ এন করিম এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের চিফ ইনফরমেশন টেকনোলজি অফিসার ও সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিক্যাফ) এর উপদেষ্টা প্রকৌশলী মোঃ মুশফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে ‘সাইবার নিরাপত্তা’ বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যা উল্লেখ করে এ বিষয়ে সচেতনতা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, আইন প্রবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ৪টি বিষয় রয়েছে। সে অনুায়ী আমাদের প্রথমে নাগরিকদের সচেতন করতে হবে, কারণ সচেতন নাগরিক না থাকলে আমরা বিপদে পড়ব; দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সঠিক অবকাঠামোতে নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ও বাস্তবায়ন ছাড়া আমরা ডিজিটাল বিশ্বকে সুরক্ষিত করতে পারি না; তৃতীয়ত, যথাযথ আইন, নীতি এবং নির্দেশিকা যা না থাকলে আমরা আমাদের সাইবার স্পেসকে রক্ষা করতে পারবো না; এবং চতুর্থত, আন্তর্জাতিক তথ্য, জ্ঞান ভাগাভাগি এবং সহযোগিতা। কারণ আজকাল কেউ বলতে পারে না যে তারা নিরাপদ, সবাই সাইবার হুমকির মধ্যে রয়েছে। সুতরাং, এটা আমার, আপনার, কোনো ব্যক্তি, কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোনো দেশের বিষয় নয়; এটা সমগ্র বিশ্বের সম্পর্কে; সাইবার বিশ্বকে সুরক্ষিত করার জন্য আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে।
সাইবার নিরাপত্তায় বিদ্যুত ও শক্তি, টেলিকম এবং আর্থিক খাতকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বিবেচনা করে এই তিনটি খাতে অধিক মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ঘোষণা করেছি এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমরা এই অবকাঠামোগুলোর যত্ন নিচ্ছি। তবে একই সাথে, আমরা কিছু তথ্য সুরক্ষা নির্দেশিকা চালু করেছি যা বেসরকারি খাতের জন্য অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মেলনকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ উল্লেখ করে পলক বলেন, আমরা এখন এড্যুকেশন, ইনভেস্টমেন্ট, ল ও হেলথ জিপিটি তৈরি করতে যাচ্ছি। পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তাই আপনাদের তখন আর শত শত সেবার জন্য হাজার হাজার ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে না। ভার্চুয়াল অ্যাসিসটেন্ট গভর্নমেন্ট জেআই-কে জিজ্ঞেস করলে কিংবা এতে কিছু লিখেই আপনি সব সেবা পাবেন। গভর্নমেন্ট ব্রেইন সব উত্তর দেবে। দেবে দিক নির্দেশনাও।







